ঈদের আগে ৪৯০৮ মসজিদে ভাতা দেবে সরকার, পাইলট প্রকল্পে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সম্মানি
আসন্ন রোজার ঈদের আগেই দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি সোমবার (২ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় ভাতা বিতরণ
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ঈদের আগে দেশের ৪৯০৮টি মসজিদে সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ৯৯০টি মন্দির, ৭২টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি গির্জায় ভাতা প্রদান করা হবে। এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, 'তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পরে আমাদের নির্বাচনের ইশতেহারে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সেগুলো আমরা একে একে বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপ নিয়েছি।' ইশতেহারে প্রতিটি মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেমদের সম্মানি ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। একইভাবে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার ধর্মীয় ব্যক্তিদেরও ভাতা দেওয়া হবে।
ভাতার পরিমাণ ও সময়সীমা
পাইলট স্কিমে আগামী জুন পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মসজিদে নিম্নলিখিত হারে মাসিক সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে:
- খতিব সাহেব: ৩০০০ টাকা
- ইমাম সাহেব: ৫০০০ টাকা
- খাদেম: ২০০০ টাকা
ঈদের সময় প্রতিটি মসজিদে তিন হাজার টাকা ঈদ বোনাস প্রদান করা হবে। পাইলট প্রকল্পে ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে ৪৯০০টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ৭২টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি গির্জা অন্তর্ভুক্ত হবে।
চার বছরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, 'এটি পাইলট প্রকল্প। যখন এটি সারা বাংলাদেশে গ্রহণ করা হবে তখন ৪ লাখের ওপরে চলে যাবে। আমরা চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ টাকা পরিশোধ করব।' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে সারাদেশে প্রায় তিন লাখ মসজিদ এবং ৪৪ হাজারের মতো মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা রয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই এই ভাতা প্রকল্পের আওতায় আসবে।
এই উদ্যোগটি সরকারের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চালু হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
