নেত্রকোনার ইউপি চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্ত আদেশ স্থগিত, স্বপদে বহাল
ইউপি চেয়ারম্যানের বরখাস্ত স্থগিত, স্বপদে বহাল

নেত্রকোনার ইউপি চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্ত আদেশ স্থগিত, স্বপদে বহাল

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে উচ্চ আদালতের আদেশে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার পটভূমি ও আদালতের হস্তক্ষেপ

জানা গেছে, ১৮ জানুয়ারি লেঙ্গুরা বাজারে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, 'এটা আমার ইউনিয়ন। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। মোবাইল কোর্ট করার আগে আমাকে জানাতে হবে।'

পরদিন আদালত অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তবে গত ২৫ জানুয়ারি তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এবং শুনানি শেষে আদালত বরখাস্তের আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন তাকে স্বপদে বহাল রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর গতকাল রোববার থেকেই তিনি স্বপদে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, 'আদালতের নির্দেশনা ও মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই সময়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশ জারি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, এটি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; বরং এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী স্বাক্ষরিত আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশাসনিক পদক্ষেপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া ও নীতিমালা অনুসরণ করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগ আরও কঠোর নজরদারি ও সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে।