চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রকৌশলীকে হুমকি: ‘রুমে ঢুকে ফুটবলের মতো লাথি দেব’
ফটিকছড়িতে প্রকৌশলীকে হুমকি: ‘ফুটবলের মতো লাথি দেব’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রকৌশলীকে হুমকি: ‘রুমে ঢুকে ফুটবলের মতো লাথি দেব’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক প্রকৌশলীকে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালির অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডে ঠিকাদার মহসিন হায়দারকে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘রুমে ঢুকে তোকে ফুটবলের মতো লাথি দেব, একেবারে উড়াই ফেলব।’ এই অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

অডিওতে কী বলা হয়েছে?

অডিও রেকর্ডে ঠিকাদার মহসিন হায়দার প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘ব্যাংকে যে চিঠি লিখেছিস, সেটি এখনই সরিয়ে নে। ফটিকছড়িতে থাকতে হলে আমার অনুমতি নিয়ে থাকতে হবে। রুমে তালা ঝুলিয়ে দেব।’ এই কথোপকথনে অশ্লীল ভাষা ও হুমকির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ঠিকাদারের বক্তব্য

অভিযুক্ত ঠিকাদার মহসিন হায়দার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ফটিকছড়ি সীমান্তের কয়লার মুখ এলাকায় একটি স্কুলভবন নির্মাণের কাজ চলছে। আমি ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। এলাকাটি অনেক দুর্গম, তাই বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই আমাকে কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার অজুহাতে জামানত কেটে রাখা হচ্ছে। তাই মনের দুঃখে গালাগাল করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি অনুতপ্ত।’ তিনি তার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মহসিন অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর মাধ্যমে এই কাজটি পরিচালনা করছেন বলে জানান।

প্রকৌশলীর প্রতিক্রিয়া

উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অনিয়মের কারণে বিল স্থগিত করায় ওই ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হয়ে এমন আচরণ করেছেন। এর আগেও আমার কার্যালয়ে এসে তিনি একই ভাবে হুমকি–ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের আচরণ প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গালাগালি ও হুমকির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এভাবে কাউকে গালাগাল করা যায় না। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ আছে।’ তিনি এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

এই ঘটনা ফটিকছড়ি উপজেলার উন্নয়ন কাজে নিয়মিত বিরোধ ও চাপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্কুলভবন নির্মাণের মতো জনহিতকর প্রকল্পে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সময়সীমা নিয়ে মতবিরোধ প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে হুমকি ও গালাগালির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক এবং আইনবিরুদ্ধ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।