রাজারহাটে শিবির-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ৬
রাজারহাটে শিবির-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার ওপর হামলার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় এক শিবির কর্মীসহ অন্তত ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেয়াল লিখন ও ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে রবিবার দুপুরে উপজেলা পশ্চিম থানা শিবিরের সভাপতি সুজন মিয়ার ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে জড়ো হলে ফের হামলার আশঙ্কায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আহত সুজন মিয়াকে পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্ষোভ ও পাল্টা মিছিল

ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সন্ধ্যার আগে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা কার্যালয়ে জড়ো হন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যার পর বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টা মিছিল বের করে। মিছিলটি জামায়াত কার্যালয়ের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু নেতাকর্মী রেললাইনের পাথর তুলে কার্যালয় লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকেন। এতে মুহুর্মুহু ঢিলের আঘাতে জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। এ সময় ঢিলের আঘাতে হাবিবুর রহমান (১৭) নামে এক শিবির কর্মীর মাথা ফেটে যায়। তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পক্ষগুলোর বক্তব্য

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আহমদ আলী বলেন, “শিবির নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল শেষ করে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করি। কিছু সময় পর বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালান। আমরা এটি কল্পনাও করতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, কার্যালয়ের সামনে কলাপসিবল গেইট কিছুটা খোলা ছিল। তারা রেললাইনের পাথর দিয়ে আমাদের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকেন। আত্মরক্ষার্থে আমাদের কিছু নেতাকর্মী পাল্টা ঢিল ছুড়েছে। তবে আমরা অফিসের ভেতরে থাকায় একতরফা আক্রমণের শিকার হয়েছি। আমাদের এক ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে, অনেকে পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। বিএনপিও আওয়ামী আমলের মতো ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বিরোধের সূত্রপাতের জন্য ছাত্রশিবির ও জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষের দিক থেকেই প্রথম উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিলের কোনও সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কিছু উত্তেজিত নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে মিছিল বের করে। সেখান থেকেই ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।” তিনি আরও বলেন, জেলা নেতৃবৃন্দ উপজেলা কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করে পরিস্থিতি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা কুড়িগ্রামের শান্তি বজায় রাখতে রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। আশা করছি, সোমবারের (২৭ এপ্রিল) মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

পুলিশের বক্তব্য

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনর রশীদ বলেন, “বিএনপির মিছিল থেকে ঢিলের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াত কার্যালয় থেকেও ঢিল ছোড়া হয়েছে বলে জেনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”