কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি মোতায়েন
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অবৈধ উত্তোলন রোধে ইতিমধ্যেই বাড়তি পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, দুই দিনের মধ্যে বিজিবি থেকেও একটি প্লাটুন পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং অবৈধ কার্যকলাপ দ্রুত দমন করা সম্ভব হবে।
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত
পাথর কোয়ারি সংক্রান্ত বিষয়কে তদারকি করার জন্য দু-এক দিনের মধ্যে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এই বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে, যা অবৈধ উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বালু-পাথর লুটপাটে জড়ায়, আমাদের নজর এড়াতে পারবে না।
গভীর রাতে চোর-পুলিশ খেলা বন্ধের হুঁশিয়ারি
মন্ত্রী আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গভীর রাতে কেউ চোর-পুলিশ খেলা করলে তৎক্ষণাৎ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ টেরও পাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। তিনি সিলেট-৪ আসনের কোয়ারিগুলো থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পাথর বা বালু স্থানান্তর করা যাবে না। এই নির্দেশনা অবৈধ উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে সাহায্য করবে।
পটভূমি: গণলুটের ঘটনা
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কোম্পানীগঞ্জের কোয়ারি থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বেড়ে গিয়ে ২০২৫ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রীতিমতো গণলুটের ঘটনা ঘটে। এই সময়ে সুপরিচিত সাদা পাথরের প্রায় ৮০ শতাংশ চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপগুলি এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে এবং পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
