বাগেরহাটে নির্মাণাধীন সড়ক থেকে ৩৯ ব্যারেল বিটুমিন চুরি
বাগেরহাটের সদর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন সড়ক প্রকল্প থেকে ৩৯ ব্যারেল বিটুমিন চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে কররী সিঅ্যান্ডবি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব বিটুমিন চুরি হয়। চুরি হওয়া বিটুমিনের আনুমানিক মূল্য ছয় লক্ষাধিক টাকা বলে জানা গেছে।
ঘুষের অভিযোগ ও কাজ বন্ধের দাবি
এ ঘটনায় ঠিকাদার আনছুর রহমান টিটু বাগেরহাট এলজিইজির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও আরও ঘুষের দাবিতে কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিনি ৪৫ জন শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি নিয়ে দুটি সড়কের কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, "নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন কাজের স্থানে গিয়ে শ্রমিকদের গালাগাল করেন এবং ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে কাজ বন্ধ করে দেন। আমি নিরুপায় হয়ে ২ লাখ টাকা ঘুষ দিলে একটি কাজের অনুমতি দেন। বাকি টাকা না দেওয়ায় অন্য কাজটি বন্ধ করে রাখতে বলেন।"
চুরির ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে কররী সিঅ্যান্ডবি বাজারের পাশে খোলা জায়গায় বিটুমিনের ব্যারেলগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। রবিবার ভোরে শ্রমিকরা কাজের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখেন ৩৯ ব্যারেল বিটুমিন নেই। পরে বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ চক্র গভীর রাতে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানযোগে বিটুমিনগুলো নিয়ে গেছে। শ্রমিক কাম পাহারাদার মো. আল আমিন জানান, তিনি রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জেগেছিলেন, এরপর ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে দেখেন বিটুমিনগুলি চোরেরা নিয়ে গেছে।
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
বাগেরহাট এলজিইজির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "কোনও ঠিকাদারের কাছে কোনও প্রকার ঘুষ চাওয়া হয়নি। আমি ওই ঠিকাদারকে চিনি না।"
চুলকাঠি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।" এ বিষয়ে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা স্থানীয় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
