রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানে তাকে আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। তবে অপর আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদালতে হাজির করা হয়নি। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন শুনানি হবে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে এসে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাড়ানো ছিল।
মামলা ও গ্রেফতার
এ ঘটনার দিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আদেশ দেন আদালত।
তদন্ত ও অভিযোগপত্র
তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারে প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। এছাড়া আসামিপক্ষে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমূল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করেন আইন মন্ত্রণালয়।



