পুলিশের পোশাক পরিবর্তন: নেভি ব্লু শার্টের সাথে খাকি প্যান্ট
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন: নেভি ব্লু শার্ট, খাকি প্যান্ট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, পোশাকের ওপরের অংশ আগের মতোই ‘নেভি ব্লু’ শার্ট রাখা হয়েছে, আর প্যান্ট দেওয়া হয়েছে খাকি রঙের।

পোশাক পরিবর্তনের কারণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান পোশাক নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট নয় এবং এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়নি। পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা ঐতিহ্যবাহী ড্রেস যাতে দেওয়া যায়, সেটা বিবেচনা করেছি।’

নতুন পোশাকের বিবরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগের শার্টের ওপরের অংশ বহাল রেখে প্যান্ট খাকি ড্রেস দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাক পরতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে, কারণ কাপড় তৈরিসহ প্রস্তুতির বিষয় আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পোশাক নির্বাচনের প্রক্রিয়া

গত মাসে দুইবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পুলিশ প্রশাসন পাঁচ ধরনের রং উপস্থাপন করে। এর মধ্যে ছিল খাকি শার্ট ও নেভি ব্লু প্যান্ট, খাকি শার্ট ও খাকি প্যান্ট, নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট, লোহা রঙের পোশাক এবং আকাশি শার্ট ও নেভি ব্লু প্যান্ট। সরকার আজ নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্ট বেছে নিয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের বদলি ও অবসর

পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসর গ্রহণ—সবই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব কাজে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে কোনো অবিচার না ঘটে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামিনে মুক্ত অপরাধী প্রসঙ্গ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয়, তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে যাতে তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে।

মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান

১ মে থেকে সারা দেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মাদক ব্যবসার হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের ভয়াবহ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।