তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছেন তামিল সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থালাপাতি বিজয়। তার এই বড় জয় দক্ষিণ ভারতে সিনেমা এবং রাজনীতির মধ্যকার চিরন্তন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত কয়েক দশকে বহু চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব রুপালি পর্দার তারকা ইমেজ ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছেন।
এন টি রামা রাও (এনটিআর)
১৯৪৯ সালে এল ভি প্রসাদ পরিচালিত তেলুগু ছবি ‘মানা দেশম’-এর মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ঘটেছিল এন টি রামা রাওয়ের। এরপর তিনি ‘পাল্লেতুরি পিল্লা’ (১৯৫০) এবং ‘রাজু পেদা’ (১৯৫৪) সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৮২ সালে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের প্রথম আঞ্চলিক দল হিসেবে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে তিনি চার মেয়াদে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর)
১৯৩৬ সালে ‘সতী লীলাবতী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তামিল চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এম জি রামচন্দ্রনের। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ১৩৫টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যার বেশিরভাগই ছিল তামিল ভাষার। ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিকে রামচন্দ্রন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে তিনি সি এন আন্নাদুরাইয়ের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে-তে (দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম) যোগ দেন। চলচ্চিত্রের তারকা হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে তিনি দলটির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসেন। ১৯৬৯ সালে আন্নাদুরাইয়ের মৃত্যুর তিন বছর পর, ১৯৭২ সালে তিনি ডিএমকে ছেড়ে এআইএডিএমকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটিকে একাধিক নির্বাচনে বিজয়ী করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
জে জয়ললিতা
১৯৬৫ সালে সি ভি শ্রীধর পরিচালিত ‘ভেন্নিরা আদাই’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তামিল সিনেমায় অভিষেক ঘটে জয়রাম জয়ললিতার। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে তিনি অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৮২ সালে এম জি রামচন্দ্রনের হাত ধরে তিনি এআইএডিএমকে-তে যোগ দেন এবং রামচন্দ্রনের মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ২০১৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোট ছয় মেয়াদে ১৪ বছরেরও বেশি সময় এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
মুথুভেল করুণানিধি
সরাসরি অভিনেতা না হলেও মুথুভেল করুণানিধি চিত্রনাট্যকার হিসেবে তামিল চলচ্চিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। কোয়েম্বাটুর ভিত্তিক জুপিটার পিকচার্স প্রযোজিত এবং এ এস এ সামি পরিচালিত ‘রাজকুমারী’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম কাজ করেন। সেই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এম জি রামচন্দ্রন। করুণানিধি ১৯৫৭ সালে মাদ্রাজ রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মোট পাঁচ মেয়াদে প্রায় দুই দশক ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন।
জানকী রামচন্দ্রন
অভিনেত্রী ও এম জি রামচন্দ্রনের স্ত্রী জানকী রামচন্দ্রন ১৯৮৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ দিনের জন্য সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজ্যটির প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া



