ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা লাঘব ও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশা বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এসব তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংসদে তথ্য প্রদান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ
মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো—প্রাক বর্ষাকালীন (মার্চ-মে) সময়ে কিউলেক্স এবং বর্ষাকালীন সময়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সনাক্তকরণ এবং সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম। সার্ভলেন্স সিস্টেম জোরদারকরণ। জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়। সকালে লার্ভিসাইডিং এবং প্রজনন স্কুল ধ্বংস। সন্ধ্যাকালীন ফগিং কার্যক্রম। কিউলেক্স মশা নিধনে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে বন্ধ খাল-বিল, ড্রেন, নালা-নর্দমা ইত্যাদি হটস্পটগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা ও ডিএনসিসির অন্তর্গত ছয় হাজার বিঘা কচুরিপানা পূর্ণ জলাশয় পরিষ্কার করার কার্যক্রম।
তিনি আরও বলেন, 'শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার' স্লোগানের আলোকে প্রতি শনিবার সকাল ৮ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআর কর্তৃক প্রাপ্ত ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডসমূহে মশার উৎপত্তিস্থল দূরীকরণে 'অপারেশন ক্লিন হোম: হেলদি লাইভস' কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি ওয়ার্ডে অভিযান চালানো। হসপিটাল সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ এবং এ সকল ঠিকানায় কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি অধিকতর কার্যকর জৈব কীটনাশক ব্যাসিলাস থুরিঞ্জিয়েনসিস ইজরায়েলেনসিস (বিটিআই) পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে ক্রয় প্রক্রিয়াধীন আছে।
মন্ত্রী বলেন, ডিএনসিসি ব্যবহৃত কীটনাশকের মান যাচাইয়ের জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দৈবচয়ন ভিত্তিতে পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। জনসচেতনতা ও জন সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে নতুন স্টিকার/লিফলেট, বুকলেট প্রস্তুত করা হয় যা চলমান আছে। বর্ষা মৌসুমে সতর্কতামূলক বাল্ক এসএমএস দেওয়া ও টিভি স্ক্রলে প্রচার কার্যক্রম চলমান আছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের টেকনিক্যাল কমিটির গাইডলাইন অনুযায়ী, কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার এবং কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএসসিসি আওতাধীন প্রতিটি অঞ্চলে প্রতি সপ্তাহে স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এছাড়া ডিএসসি এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং টিমের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, হাট-বাজারসহ জনবহুল এলাকায় লিফলেট/মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রচার অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে স্বল্প মেয়াদী কার্যক্রমের আওতায় হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাল, বক্স-কালভার্ট ও নর্দমা পরিষ্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।



