কক্সবাজারে ইউপি সদস্য অপহরণ: ১০ ঘণ্টা পর ৮ লাখ টাকায় মুক্তি
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা পর ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈদগাঁওয়ের কালিরছড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণের বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পানের ছড়া ঢালা এলাকায় অস্ত্রের মুখে অপহরণের শিকার হন রুস্তম আলী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ঈদগাঁও থেকে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি ঈদগড়ের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার গতিরোধ করে এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের পরপরই পরিবারের সদস্যদের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা হয় এবং রুস্তম আলীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অপহরণকারীরা প্রথমে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মুক্তিপণের বিষয়টি জানা নেই বলে জানানো হয়েছে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময়ের অভিযান শেষে অপহৃত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে মুক্তিপণের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।
রুস্তম আলীর পরিচয়
রুস্তম আলী ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খরুলিয়া মোড়া এলাকার বর্তমান ইউপি সদস্য। তার অপহরণ ও মুক্তির ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অপহরণের মতো অপরাধ রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।



