ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ইউনিয়ন গঠনের গণশুনানি সম্পন্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম নিয়ে একটি নতুন ইউনিয়ন গঠন ও আখাউড়া উপজেলায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশল ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই গণশুনানিতে ছয় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বিষয়টি ‘পজিটিভলি’ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
প্রস্তাবিত ইউনিয়নের নাম ও অন্তর্ভুক্ত গ্রাম
প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘বরিশল ইউনিয়ন’। এই ইউনিয়নটি আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আখাউড়া উপজেলায় বর্তমানে পাঁচটি ইউনিয়ন রয়েছে। নতুন একটি ইউনিয়ন যোগ হলে ইউনিয়নের সংখ্যা ছয়টিতে উন্নীত হবে।
নতুন ইউনিয়ন গঠনের জন্য প্রস্তাব করা গ্রামগুলোর নাম হলো- বরিশল, বৈষ্টবপুর, কোড্ডা, কোড়াবাড়ি, শ্যামনগর ও চান্দি। এই ছয়টি গ্রাম বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। বাসুদেব ইউনিয়নে বর্তমানে মোট ১৬টি গ্রাম রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি ও আবেদন
স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে ছয় গ্রাম মিলিয়ে ‘বরিশল ইউনিয়ন’ গঠন করে আখাউড়া উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। বরিশল গ্রামের বাসিন্দা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব সামিউল মাসুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের দেওয়া চিঠিতে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম ৩০ মার্চ আরেক চিঠিতে এ বিষয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্তপূর্বক মতামত প্রতিবেদন দিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া সালাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে আমাদের সম্পর্ক আখাউড়ার সঙ্গে। আখাউড়া যেতে আমাদের লাগে দুই থেকে তিন মিনিট। আর জেলা সদরে যেতে লাগে এক ঘণ্টা। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসতেছি। এখন লিখিত আবেদন করা হয়েছে।’
চান্দি গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলি ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা আখাউড়া যেতে চাই, কারণ আমাদের আখাউড়ার সঙ্গে সব ধরনের সুবিধা আছে। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসার জন্য আমাদেরকে আখাউড়া যেতে হয়। আমাদের এখান থেকে আখাউড়া যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি। আমরা মাত্র ১০ টাকা দিয়ে আখাউড়া যেতে পারি। সদরে যেতে আমাদের কয়েক শত টাকা খচর হয়, সময়ও নষ্ট হয়। তাই আমরা আখাউড়ার সঙ্গে যেতে চাই।’
বরিশল গ্রামের শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পড়ালেখা করার জন্য আখাউড়ায় খুব সুবিধা। সদরে গিয়ে আমাদের পড়ালেখা করা সম্ভব না। আমাদের যদি কেউ অসুস্থ হয়, তাহলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আগে আখাউড়া হাসপাতালে নিতে হয়। তাই আমাদের আখাউড়া সব দিক দিয়ে সুবিধা হবে। আমরা চাই, আমাদেরকে আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হোক।’
জেলা বিএনপি নেতার বক্তব্য
এ বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে ছয়টি গ্রামকে নিয়ে ইউনিয়ন করার আবেদন করা হয়েছে সেখানকার মানুষের সামাজিকতা, রাজনীতি সবই আগে থেকে আখাউড়া কেন্দ্রিক। কিন্তু কাগজে কলমে জেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও বিভিন্ন কারণে সেখানকার মানুষ সুবিধাবঞ্চিত ছিল। ওই সব গ্রামের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করে আমি নতুন ইউনিয়ন করা ও এটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আবেদন করেছি। এতে অবহেলিত এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।’
জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া
গণশুনানি শেষে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা গত কয়েকদিন আগে শুনেছি যারা যেতে চায় না তাদের কথা। আজকে শুনেছি যারা যেতে চায়, তাদের কথা। আজকে তারা বলেছে, তাদের শিক্ষা ব্যবসা পড়ালেখা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাতের জন্য তাদেরকে আখাউড়া যেতে হয়। আখাউড়া যেতে তাদের ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে এবং সদরে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আমরা আজকে তাদের এই কথাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানাবো। তারপর যে সিদ্ধান্ত আসে সেটাই বাস্তবায়ন হবে।’
অন্যান্য পরিকল্পনা
এ ছাড়া বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন কিংবা কসবার গোপীনাথপুরকে আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগগুলি স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।



