ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বরিশল ইউনিয়ন গঠনে গণশুনানি: সমর্থন ও বিরোধিতা
বরিশল ইউনিয়ন গঠনে গণশুনানি, সমর্থন-বিরোধিতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন ইউনিয়ন গঠনে গণশুনানি: সমর্থন ও প্রতিবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন ‘বরিশল ইউনিয়ন’ গঠনের বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বরিশল গ্রামের ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই গণশুনানিতে কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের মতামত ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

গণশুনানি চলাকালে চান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিনা বেগমের কাছে মতামত চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘স্যার আখাউড়ায় গেলে আমাদের অনেক শান্তি লাগে, আমরা সুখ পাই। আমাদের আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে একীভূত করা হোক।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ ছয় গ্রামের বাসিন্দাদের মতামত শোনেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন।

জেলা প্রশাসক যুগান্তরকে জানান, ‘আখাউড়ার সঙ্গে যারা যেতে চায় তাদের কথা শুনেছি। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের সুবিধার বিষয়টি দেখলাম। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রস্তাবিত ইউনিয়নের বিস্তারিত

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম নিয়ে প্রস্তাবিত এই ইউনিয়নের নাম ‘বরিশল ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে, যা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আখাউড়ায় বর্তমানে পাঁচটি ইউনিয়ন রয়েছে এবং নতুন একটি যোগ হলে ইউনিয়ন সংখ্যা ছয়ে উন্নীত হবে।

প্রস্তাবিত ইউনিয়নের জন্য নির্বাচিত গ্রামগুলোর নাম হলো:

  • বরিশল
  • বৈষ্ণবপুর
  • কোড্ডা
  • কোড়াবাড়ি
  • শ্যামনগর
  • চান্দি

এই ছয়টি গ্রাম বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মোট ১৬টি গ্রাম রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে এই গ্রামগুলো আখাউড়া উপজেলার লাগোয়া হওয়ায় যোগাযোগ সহজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া

জেলা বিএনপির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কবীর আহমেদ ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে ছয় গ্রাম মিলিয়ে ‘বরিশল ইউনিয়ন’ গঠন করে আখাউড়া উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম ৩০ মার্চ একটি চিঠিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্তপূর্বক মতামত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। এছাড়া বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন কিংবা কসবার গোপীনাথপুরকে আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিরোধিতা ও রাজনৈতিক বিতর্ক

অবশ্য প্রস্তাবিত ইউনিয়নকে আখাউড়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছে আখাউড়া উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ। সোমবার সড়ক বাজার এলাকায় মানববন্ধন থেকে তারা জানান, আখাউড়াতে জনসংখ্যার চাপ ইতিমধ্যেই বেশি এবং নতুন আরেকটি ইউনিয়ন হলে ভারসাম্য রক্ষা হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আবুল মুনসুর মিশন, সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেনসহ বিভিন্ন নেতারা আখাউড়া উপজেলা সীমানা ও জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে একীভূতকরণের বিরুদ্ধে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু, সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া এক বিবৃতিতে প্রশাসনিক বিন্যাস ও ভোটের সমতা আনয়নের জন্য আখাউড়া উপজেলায় কমপক্ষে আরও দুটি ইউনিয়ন সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবিত ইউনিয়ন গঠন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, যেখানে এক পক্ষ সুবিধার কথা বলছে অন্যদিকে আরেক পক্ষ সম্ভাব্য সমস্যার আশঙ্কা করছে।