কক্সবাজার শহরের আলীরজাহাল এলাকায় অবস্থিত সরকারি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে বর্তমানে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশু আশ্রয় নিয়ে লেখাপড়া ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
রাবেয়া বসরীর গল্প
১১ বছর বয়সী রাবেয়া বসরী ছোট বয়সেই বাবাকে হারিয়েছে। মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের পক্ষে তার দেখাশোনা সম্ভব হয়নি। পাঁচ বছর ধরে সে এই পুনর্বাসনকেন্দ্রে বেড়ে উঠছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া এখন শহরের একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। পাশাপাশি সে আত্মরক্ষার কৌশল ও সেলাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কী হতে চায় জানতে চাইলে সে সাবলীলভাবে বলে, 'মানুষ হতে চাই, লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।'
অশৈ সিং চাকমার স্বপ্ন
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি এলাকার ১০ বছর বয়সী অশৈ সিং চাকমার মা–বাবা দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এক বছর আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করেন। এখন সে অন্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে লেখাপড়ার পাশাপাশি মার্শাল আর্ট শিখছে। অশৈ সিং জানায়, তার মা–বাবা ও ভাইবোন কেউ নেই। বর্তমানে শহরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। সপ্তাহে দুই দিন সে নিয়মিত আত্মরক্ষার কৌশলের প্রশিক্ষণ নেয়। বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চায় সে।
প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
সমন্বিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, কেন্দ্রে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মার্শাল আর্ট, সেলাই, কম্পিউটার, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, হোটেল ব্যবস্থাপনা, রান্না ও বিউটিফিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি কেটে গেলে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ঈদ উৎসব ও উপহার বিতরণ
ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিশুদের ঈদসামগ্রী ও প্রসাধনসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুরা আত্মরক্ষার কৌশল, নৃত্য ও গান পরিবেশন করে। 'শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র আছে তাদের সাথে' স্লোগানে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে এসব শিশু এখানে আশ্রয় নিয়ে লেখাপড়া শিখছে ও নিজেদের গড়ে তুলছে। তাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখই প্রমাণ করে, তারা নিরাপদে আছে ও ভালো আছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মামনুন আহমেদ অনীকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে নিবাসী শিশুদের লেখায় প্রকাশিত দেয়ালিকা 'আলোর পথযাত্রী'-এর ২৩তম সংখ্যা উন্মোচন করা হয়।



