তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ করা গেলে গ্রামের সাধারণ মানুষ কম সময় ও কম খরচে বিচার পাবেন এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি থেকে মুক্ত থাকবেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে প্রচার কার্যক্রম’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল। প্রধান অতিথি ছিলেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’-এর জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান।
গ্রাম আদালতের ভূমিকা
বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত বর্তমানে গ্রামীণ জনগণের জন্য দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বিচারব্যবস্থার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। বিশেষ করে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আইনজীবী ছাড়াই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজে বিচারসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ মীমাংসা হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকছে।
উপকারী জনগোষ্ঠী
সভায় আরও জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। চুরি, প্রতারণা, দাঙ্গা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা, তালাক ও অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া আক্তার জাহান বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে গ্রামের মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ কাজে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি গ্রাম আদালত বিষয়ক কার্যক্রম জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
প্রকল্পের কার্যক্রম
সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাস চক্রবর্তী। গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ ও এর বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করেন মশিউর রহমান চৌধুরী। এছাড়া গণযোগাযোগ অধিদফতরের বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন।
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে মো. আবদুল জলিল বলেন, জনগণকে সরকারি সেবা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে তথ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তথ্য অফিস ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।



