রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা এখন আর কাউকে বিস্মিত করে না, বরং এটি আমাদের উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে। প্রতিটি সংখ্যার পিছনে রয়েছে একটি ভাঙা পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, প্রতি মাসে আমরা মনে করিয়ে দিচ্ছি যে নাগরিকদের রাস্তায় সুরক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।
দুর্ঘটনার কারণ: চেনা ছক
সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো বেদনাদায়কভাবে পরিচিত: বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অনুপযুক্ত যানবাহন, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং খারাপ অবকাঠামো। বছর বছর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, সচেতনতা প্রচার চালানো হয় এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা কখনোই কমে না। বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংকট, তবুও আমরা এর সমাধান থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছি।
কাঠামোগত সংস্কারের অভাব
২০১৮ সালে গণআন্দোলন সত্ত্বেও এবং অসংখ্য সংস্কারের দাবি সত্ত্বেও, কাঠামোগত সংস্কারের অভাব রয়ে গেছে। লাইসেন্স প্রদানের মান এখনও করুণ, বাধ্যতামূলক গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা নেই এবং ট্রাফিক আইনের প্রকৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করার কোনো প্রচেষ্টা নেই।
দায়মুক্তির সংস্কৃতি
এই সবই আমাদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে। প্রায়শই ক্ষমতাবান পরিবহন মালিক এবং বেপরোয়া চালকরা জবাবদিহির আওতার বাইরে চলে যান, যা ন্যায়বিচারকে দুর্বল করে। যতক্ষণ না লঙ্ঘনের বাস্তব পরিণতি হয়, ততক্ষণ সড়ক নিরাপত্তার উন্নতি সম্ভব নয়।
সুরক্ষা অধিকার, ঐচ্ছিক নয়
বাংলাদেশের রাস্তাগুলি মৃত্যুর ফাঁদ হওয়া উচিত নয়, কিন্তু সেগুলি এখনও তাই রয়ে গেছে। প্রতিটি প্রাণহানি একটি স্মারক যে সুরক্ষা ঐচ্ছিক নয়, বরং এই দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার।



