চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা শতাধিক ব্যক্তিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্বেগ ও প্রতিরোধ
গতকাল রোববার ভোরে ১১ জনকে পুশ ইনের চেষ্টার খবর এবং পরে আরও ১২৫ জনকে সীমান্তের ওপারে জড়ো করে রাখার তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুশ ইন প্রতিরোধে সংগঠিত হয়ে বিজিবির সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, নজরদারি বৃদ্ধি এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির বক্তব্য
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান আজ সোমবার সকাল ১০টায় বলেন, গত ৩০ ঘণ্টায় এই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে পুশ ইনের কোনো চেষ্টা শনাক্ত হয়নি। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত থেকে গতকাল রোববারই ওই ব্যক্তিদের বারাদী-সুলতানপুর সীমান্ত এলাকার দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার
৬ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত ১১৩ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে বিএসএফের ৭৮টি গেট আছে জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, এসব গেট ও সীমান্ত পথ দিয়ে যাতে কোনো ধরনের পুশ ইন বা অনুপ্রবেশ না ঘটে, এ জন্য বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
৬ বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল ভোরে দর্শনা-জয়নগর সীমান্তের ৭৭ এস-২ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তাঁরা ব্যর্থ হন। পরে ওই ব্যক্তিদের পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের বারাদী-সুলতানপুর সীমান্তসংলগ্ন ভারতীয় এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় দফায় সীমান্তের ওপারে আরও ১২৫ জনকে জড়ো করার খবর পায় বিজিবি। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক উপস্থিতি দেখে বিএসএফ তাঁদেরও অন্যত্র সরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।



