অধিকৃত পশ্চিম তীরের বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে আকস্মিক হানা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (২৮ জুন) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ইসরায়েলি সেনারা রামাল্লার কাছে অবস্থিত ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা পূর্ব দিক দিয়ে শারীরিক শিক্ষা অনুষদের ভবনে ঢুকে পড়ে এবং সেখানকার আসবাবপত্র ও ভেতরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এই অভিযানের সময় তারা ক্যাম্পাসের একজন নিরাপত্তাকর্মীকে প্রহার করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে এই অভিযানের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমস্ত পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পাতায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভাঙচুরের বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও প্রভাব
বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধরনের হানা দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তারা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা এবং ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন নথিপত্র ও সামগ্রী জব্দ করেছে। গত ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা এবং দখলদারদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই অল্প সময়ে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন এবং প্রায় ২৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা যে এই ধরনের নিয়মিত হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত পুরো পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অংশ করে নেওয়ার পথ তৈরি করছে। এতে করে জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।



