রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঁচজন এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঁচদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পাঁচজন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা জায়গায় অবস্থান করায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা যতটুকু সম্ভব তাদের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করছেন। তবে বিজিবি-বিএসএফের একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। ফলে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও তারা অবস্থান করছে।
পুশইনের ঘটনা
জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ রৌমারীর গয়টাপাড়া ১০৬০/১-এস সীমান্ত ও মানকারচর ১০৬৬ সীমান্ত পিলার ভন্দুরচর এলাকায় দিয়ে পৃথক দুটি দলে মোট ৯ জনকে সীমান্তে এনে রেখে যায়। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৬ জন এবং মানকারচর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে পুশইন করা হয়।
পুশইনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির টহলরত সদস্যরা তাদের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করতে দেখে। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করে। স্থানীয়রা জানান, তীব্র গরমে গত পাঁচ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় এসব নাগরিক চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার তীব্র সংকটে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পতাকা বৈঠক ও বর্তমান অবস্থা
গত বুধবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি যৌথ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর মানবিক দিক বিবেচনায় গয়টাপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা একই পরিবারের বেলাল-সুমি দম্পতিসহ চারজনকে উদ্ধার করে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।
ফলে বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজনসহ মোট পাঁচজন এখনো নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠক করা হলেও এখনো তাদের ফিরিয়ে নেওয়া বা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
স্থানীয় শৈলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনামিয়া বলেন, এখনো গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজন—মোট পাঁচজন সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
৩৫ বিজিবির গয়টাপাড়া বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



