সরাইলে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, তৃতীয় দিনেও চলছে সহিংসতা
সরাইলে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, তৃতীয় দিনেও চলছে সংঘর্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ ও সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ চলছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত রোববার রাতে অর্থ লেনদেনের বিরোধে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষের পটভূমি ও হতাহত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪৫) ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে ধর্মতীর্থ এলাকার হাদিম মিয়া (৫৫) বল্লমের আঘাতে নিহত হন। নিহত হাদিম মিয়া ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল হকের ছেলে।

তৃতীয় দিনের সংঘর্ষ ও লুটপাট

গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাদিম মিয়ার লাশ দাফন শেষে ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত তরুণ-যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে কালীকচ্ছ বাজারের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। বাজারের পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লোকজন অসহায় হয়ে পড়েন। পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও গভীর রাতে একাধিক দোকানে লুটপাট করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আশপাশের চার-পাঁচটি গ্রামের লোকজন যোগ দিয়ে বাজারে লুটপাটের প্রস্তুতি নেন। এ সময় সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা, বাজারের ব্যবসায়ী ও তাঁদের লোকজন ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজন ও তাঁদের অনুসারীদের ধাওয়া করেন। মুহূর্তের মধ্যে কালীকচ্ছ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল পৌনে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যান চলাচল বন্ধ ও ব্যাংকের কার্যক্রম স্থগিত

সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ঢাকা-হবিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া কালীকচ্ছ বাজারে অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বিমার কার্যক্রম বন্ধ আছে। সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষ থামাতে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।