নরসিংদীতে সংঘর্ষে নিহত ৪, পুলিশের ভেস্ট পরা আরেক মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে সংঘর্ষে নিহত ৪, পুলিশের ভেস্ট পরা মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় আ. লতিফ (৩৫) নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আ. লতিফ নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের তথ্যে এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৩ জনের মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।

আ. লতিফের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে ওসি ও স্থানীয়রা জানান, গোপীনাথপুর রফিক মেম্বারের বাড়ির প্রায় ১ কিলোমিটার সামনে মেঘনা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ নিয়ে পুলিশ ৩ জনের মরদেহ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের ঘটনা

এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) ও বুধবার (১৭ জুন) বিকালে সদর উপজেলার জিৎরামপুর এলাকা থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের পটভূমি

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জবা ও মিস্টার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধে মিস্টার গ্রুপের মামুন নামে এক প্রবাসী হত্যার পর দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন হত্যা মামলার আসামি জবা মেম্বার ও সহযোগী আলাল মুন্সিসহ তাদের গ্রুপের লোকজন। এলাকা ছাড়ার পর দফায় দফায় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় ফেরার চেষ্টা করছিল জবা গ্রুপ।

সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও আলাল মুন্সির অনুসারীরা মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানোর পর দুইজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া সবশেষ দুই দিনে নদীতে ভেসে উঠে আরও দুই মরদেহ।