ইরান যুদ্ধ শেষে ট্রাম্পের চুক্তি: বিশ্লেষণ ও প্রভাব
ইরান যুদ্ধ শেষে ট্রাম্পের চুক্তি: বিশ্লেষণ ও প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগে তিনি বলেছিলেন, 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।' কিন্তু বুধবার প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকটি আত্মসমর্পণের দলিল নয়, বরং ইরানের জন্য কিছু সুবিধা নিয়ে এসেছে।

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু

এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান শত শত কোটি ডলারের তেল বিক্রির সুযোগ ফিরে পাবে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সংকট কমাতে সাহায্য করবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তি আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তবে চুক্তির ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ী সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে।

ট্রাম্পের কৌশল পরিবর্তন

ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু অভিযান শুরুর সময় তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং সরকারের পতন। বাস্তবে সেসবের কিছুই হয়নি। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের আরেকটি রহস্য হয়ে আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিপাবলিকান দলের বিরোধিতা

ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থীরা চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেছেন। কট্টর ইহুদিবাদী ইসরায়েল সরকারও আপত্তি জানিয়েছে, কারণ তাদের আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার তাদের অভিযানকে ব্যহত করবে।

যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি

এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এতে ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৩ হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। ইতিহাসবিদেরা বহু বছর ধরে এই সংঘাতের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উদ্বেগ

ট্রাম্প কেন এত দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিজেই পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি চাননি তাঁর সঙ্গে হার্বার্ট হুভারের তুলনা করা হোক, যার আমলে মহামন্দা শুরু হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, 'হুভার সব সময়ই এমন এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর মতো আমি হতে চাইনি। আমি অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।' পরে তিনি বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যেতে শুরু করত।

ইরানের কৌশল সফল

অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও তেলবাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি—এই দুটির সমন্বয়কেই যুদ্ধের শুরু থেকে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখেছিল ইরান। তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা, লবণমুক্তকরণ কারখানা, হোটেল ও বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কৌশল কাজ করেছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক জ্বালানির মজুত থেকে বের করাতে পারলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিজয়ের দাবি করতে পারবেন। কিন্তু আপাতত মনে হচ্ছে, ট্রাম্প নতুন নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। উত্তর কোরিয়ার মতো ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।