বড়াইবাড়ি দিবসে শহীদ তিন বিডিআরকে রাষ্ট্রীয় মর্যদা দেওয়ার জোরালো দাবি
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবস পালিত হয়েছে। 'ওয়াহিদ, কাদের, মাহফুজ শহীদদের-আমরা তোমায় ভুলি নাই' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৮ এপ্রিল দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের বিডিআর-বিএসএফ সংঘর্ষের ২৫ বছর পূর্ণ হলো।
দিবস পালনের কর্মসূচি
মেজর (অব.) হুমায়ন ও মেজর (অব.) জামাল হায়দার আলীর আয়োজনে সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। বড়াইবাড়ি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বারবান্দা সূর্য্য সংঘ, বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাবাড়ি বিবিসি উচ্চ বিদ্যালয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শহীদ পরিবার এবং বারবান্দা ও চুলিয়ারচর গ্রামবাসী।
আলোচনা সভায় দাবি
দুপুর ১২টায় সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, প্রশাসক জেলা পরিষদ ও সদস্য সচিব জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম। প্রধান আলোচক ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, আহবায়ক জেলা বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমান হাসিব, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও যুগ্ম আহবায়ক জেলা বিএনপি এবং মোখলেছুর রহমান, আহবায়ক উপজেলা বিএনপি রাজিবপুর। অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- মেজর (অব.) আনিছুল
- মেজর (অব.) ডেল এইচ খান, সাধারণ সম্পাদক জনতাদল
- ব্রিগেডিয়ার জেলারেল (অব.) নাসিমুল গনি
- মেজর (অব.) তৌহীদ
- সাবেক জয়েন সেক্রেটারি শহিদুজ্জামান
- সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জাহেদুল গণি
- সাবেক লে. কর্ণেল মোস্তাফিজ
- সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় তরুন সংঘ মো. ফজলুল হক
বক্তারা বলেন, "দেশের মাটি রক্ষা করতে গিয়ে তিন বিডিআর জোয়ান নিহত হয়েছেন। শহীদ ল্যান্সনায়েক ওয়াহেদ আলী, শহীদ সিপাহী মাহফুজ ও শহীদ সিপাহী আব্দুল কাদের তাদের প্রাণের মাধ্যমে আমাদের দেশের লাল-সবুজের পতাকা অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছি। এজন্য তিন শহীদ বিডিআরকে রাষ্ট্রীয় মর্যদায় স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছি।"
ঐতিহাসিক পটভূমি
২০০১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরের বড়াইবাড়ি গ্রামে ঢুকে নারকীয় তান্ডব চালায়। অকুতোভয় বিডিআর ও গ্রামবাসীদের মিলিত প্রতিরোধে পর্যুদস্ত হয় আগ্রাসনকারী ভারতীয় বিএসএফ। ভারতীয় বিএসএফ পিছিয়ে যাওয়ার আগে বড়াইবাড়ি গ্রামের প্রায় ২৫০টি বাড়ি নৃশংসভাবে পুড়িয়ে দিয়ে যায়।
এই সংঘর্ষে ভারতীয় পক্ষে ১৬ বিএসএফ সদস্য নিহত হয়। সেই থেকে ঐতিহাসিক এই দিনটি 'বড়াইবাড়ি দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবারের দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি ২৫তম বর্ষপূর্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দিবস পালনকারীরা জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং তাদের স্মৃতি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি প্রদান এই বীর সেনানীদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হবে বলে উল্লেখ করেন উপস্থিত বক্তারা।



