সিলেটের কানাইঘাটে বিজিবির অভিযানে রোহিঙ্গাসহ চারজন আটক
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এক রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট চারজনকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে দালাল চক্রের এক সদস্যও রয়েছেন বলে বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবি এ অভিযানগুলো পরিচালনা করে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে তাদের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথম অভিযানে রোহিঙ্গা নাগরিক ও দালাল চক্রের সদস্য আটক
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কানাইঘাট উপজেলার কাচারীপাড়া এলাকায় ডোনা বিওপির একটি টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় মো. আলী হোসাইন (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়। তিনি কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার ৩৯০ টাকা, একটি মুঠোফোন ও দুটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলী হোসাইন জানান, ভারতের হায়দরাবাদে থাকা পরিবারের কাছে যাওয়ার জন্য দালাল চক্রের সহায়তায় তিনি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন।
এ ঘটনার সূত্র ধরে দালাল চক্রের সদস্য রুমেল আহমেদকেও (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রুমেলের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে, যা অবৈধ সীমান্ত পাচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় অভিযানে আরও দুইজন আটক
এদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে উপজেলার পূর্ব কারাবাল্লা এলাকায় আটগ্রাম বিওপির টহল দল পৃথক অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার সময় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রুবেল শেখ (৩৩) এবং যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোছা. শাহানাজকে (৪০) আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৭৬০ টাকা, একটি মুঠোফোন ও একটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, রুবেল শেখ উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং শাহানাজ চাকরির জন্য ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
বিজিবির বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিজিবি সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনাগুলো সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি আলোকপাত করে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি ক্রমাগত উদ্বেগের বিষয়। বিজিবির এই অভিযানগুলো সীমান্ত রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং আশা করা যায় যে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



