লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. আলী হোসেন নামে বাংলাদেশি এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে ধবলগুড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ৮৭৪/২-এস সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার সরকারহাট জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা
এর আগে, সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মো. মিজানুর রহমান নামে বাংলাদেশি এক যুবক আহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বুধবার ভোরে ফের গুলির ঘটনা ঘটলো। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলী হোসেন সীমান্ত এলাকায় তার দৈনন্দিন কাজে নিযুক্ত ছিলেন। বিএসএফের গুলিবর্ষণের সময় তিনি সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিএসএফের ক্রমাগত গুলিবর্ষণে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন এবং বিএসএফের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
গত কয়েক মাসে লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং যৌথ উদ্যোগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
নিহত আলী হোসেনের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তারা ন্যায়বিচারের দাবি করছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। বিস্তারিত তথ্য ও উন্নয়ন আসছে বলে জানানো হয়েছে।



