সুনামগঞ্জে হাওড় বাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২০, জারি ১৪৪ ধারা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওড়ে বাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে উত্তেজনা
সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওড়ে সাম্প্রতিক বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় মোহনপুর গ্রাম ও নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে গত শুক্রবার রাত থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বাঁধ কাটার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়।
প্রশাসনের জরুরি সভা ও সংঘর্ষ
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শনিবার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার মোহনপুর ও নোয়াগাঁও এলাকার লোকজনকে নিয়ে জরুরি সভা করেন। তিনি একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
তবে সভা চলাকালেই স্থানীয় এক মেম্বারের নির্দেশে তার এলাকার শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাঁধ কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাঁধ কাটতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষে মোহনপুর গ্রামের আজিজুল, আফিজ, শুক্কুর আলী, জাহাঙ্গীর, আলীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ১৪৪ ধারা জারি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন বলেন, "সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাঁধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা করেন। কিন্তু এর আগেই নোয়াগাঁও এলাকার লোকজন আইন অমান্য করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এক পক্ষ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে বাঁধ কেটে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্র এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। যত সময় ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় না তত সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।"
এলাকায় উত্তেজনা
এ ঘটনায় ডাকুয়ার হাওড় পাড়ের কয়েক গ্রামের মানুষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্মপাশা উপজেলার দুই গ্রামের মানুষের মধ্যেও বাঁধ কাটা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসন এখনো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রেখেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।



