ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল মাইকিং নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে শতাধিক আহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে জড়িয়েছে ৯টি গ্রামের মানুষ। এই সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (৪ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংঘর্ষের সময়কাল ও নিয়ন্ত্রণ
শনিবার সকাল ৭টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষটি বেলা ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ বেলা ১২টার পর সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আহতদের অবস্থা
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানান, দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা হাসপাতালে ৪৮জন গ্রামবাসী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে গ্রামবাসী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে রয়েছে একটি বড় বাজার। সেই বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এনিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় চার গ্রামের মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
গ্রামগুলোর তালিকা ও সংঘর্ষের বিবরণ
এতে মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ৮ গ্রামের মানুষের সংঘর্ষ হয়। ওই ৮টি গ্রাম হলো:
- খাপুরা
- সিংগারডাক
- মাঝিকান্দা
- ভীমেরকান্দি
- ছোট হামেরদী
- হামেরদী
- গুপিনাথপুর মৌজা
দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টাব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে। এসময় থানা পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষ চরম আকারে হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি পুলিশ। উভয়পক্ষের একাধিক দোকান পাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের বক্তব্য
ভাঙ্গা থানার মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সকাল থেকেই ফের সংঘর্ষে জড়ায় ৮ গ্রামের মানুষ। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। প্রথমে আমরা সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করি। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার তদন্ত ওসি আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতের সংঘর্ষের জেরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।



