ফরিদপুরের সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে কিশোরের চুল কাটার ঘটনায় তদন্ত শুরু
মাদক বিক্রির অভিযোগে কিশোরের চুল কাটা, তদন্ত শুরু

ফরিদপুরের সালথায় মাদক বিক্রির অভিযোগে কিশোরের চুল কাটার ঘটনা

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় মাদক বিক্রির অভিযোগে এক কিশোরের মাথার চুল কেটে দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার সকাল থেকে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তোভোগী জুনায়েদ ওরফে জুনা (১৮) নামের ওই কিশোর ভাবুকদিয়া গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, কাঁচি দিয়ে এক যুবকের মাথার চুল কাটছেন এক ব্যক্তি। ঘটনার চারপাশে দাঁড়িয়ে উৎসুক জনতা চুল কাটার দৃশ্য অবলোকন করছেন। কেউ কেউ ঘটনার দৃশ্যটি মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন, যা পরে অনলাইনে ভাইরাল হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ

ভাবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, জুনায়েদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী তাকে বারবার সতর্ক করার পরেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

শুক্রবার রাতে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি ভাবুকদিয়া গ্রামে জুনায়েদের কাছে মাদক কিনতে আসেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জুনায়েদকে ধরে ফেলেন। পরে উত্তেজিত জনতা প্রকাশ্যে তার মাথার চুল কেটে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার পরবর্তী অবস্থা

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চুল কাটার সময় জুনায়েদ ভুল স্বীকার করে আর মাদক ব্যবসায় জড়াবে না বলে আশ্বাস দেন। এর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় অনেকের মতে, আটক মাদক ব্যবসায়ী জুনায়েদকে এভাবে চুল কেটে ছেড়ে না দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলে ভালো হতো। তারা আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পক্ষপাতী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।