কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচাররত ডিজেল ও আলকাতরা জব্দ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে কোস্টগার্ডের একটি অভিযানে ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৩০০ কেজি আলকাতরা এবং ৪টি ডিজেল ইঞ্জিনসহ একটি নৌযান জব্দ করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের দাবি অনুযায়ী, এসব জ্বালানি তেল ও সরঞ্জাম মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল। অভিযানে মোট ৭ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে কোস্টগার্ডের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়
আটক হওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মো. রাসেল (২৯ বছর) ও মো. জহির (৩০ বছর)
- কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন (৩০ বছর)
- ফটিকছড়ি এলাকার মো. আক্কাস (৩১ বছর)
- কর্ণফুলী উপজেলার মো. জাবের (৩৩ বছর)
- ভোলার মো. জসিম (৩৫ বছর)
- চকরিয়া উপজেলার মো. জাকির হোসেন (৩৭ বছর)
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা থানা এলাকার কর্ণফুলী নদীর ১৪ নম্বর ঘাট এলাকায় নৌযানটি অবস্থান করছিল। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে কোস্টগার্ডের সদস্যরা নৌযানটিতে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় ডিজেল, আলকাতরা ও ইঞ্জিন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা এসব জ্বালানি তেল ও সরঞ্জাম অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তার বক্তব্য
কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জব্দ হওয়া মালামাল, নৌযান ও আটক ব্যক্তিদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অভিযানটি কোস্টগার্ডের নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিভাগের অপরাধ দমনে কোস্টগার্ডের সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।



