নড়াইলে তেল না পেয়ে বাগ্বিতণ্ডা, ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা
নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল না পেয়ে বাগ্বিতণ্ডার পর ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের তানভীর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ব্যবস্থাপক মো. নাহিদ সরদার নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লি গ্রামের আকরাম সরদারের সন্তান।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তানভীর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসেন। তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারের সঙ্গে ট্রাকচালকের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। ক্ষুব্ধ চালক প্রকাশ্যে ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নাহিদ সরদার মোটরসাইকেলে করে বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে নিয়ে রওনা দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাগ্বিতণ্ডার পর ট্রাকচালক পাম্পেই অবস্থান করছিলেন। দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে নাহিদ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকটি দ্রুতগতিতে তাঁদের পেছনে ধাওয়া করে।
হত্যাকাণ্ড ও আহতের অবস্থা
ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, হুমকির ঘটনার পর নাহিদ বের হলে তাঁদের সন্দেহ হয় এবং তাঁরা বের হন। গিয়ে দেখেন, পাম্প থেকে একটু সামনে নাহিদের মোটরসাইকেলটি চাপা দিয়ে ট্রাকটি চলে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ সরদার। তাঁর মোটরসাইকেলে থাকা বন্ধু জিহাদুল মোল্যা গুরুতর আহত হন।
জিহাদুল মোল্যাকে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
নড়াইলের তুলারামপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী মুঠোফোনে বলেন, "নাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।



