চুয়াডাঙ্গায় ৫০ বছর পর উদ্ধার, সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় করল ৭টি স্থলমাইন
চুয়াডাঙ্গায় ৫০ বছর পর উদ্ধার, সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় করল ৭টি স্থলমাইন

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ বছর পর উদ্ধার, সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় করল ৭টি স্থলমাইন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পুঁতে রাখা সাতটি স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের বোম্ব ডিসপোজাল টিম এসব মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে। বিকট শব্দে মাইনগুলো বিস্ফোরণের সময় ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী মাইন

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী মাখালডাঙ্গা গ্রামের কয়েকটি কৌশলগত স্থানে এসব স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল। দীর্ঘ ৫০ বছর পর এই মাইনগুলো আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় কৃষকদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

কৃষকের সতর্কতা ও পুলিশের তত্ত্বাবধান

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাখালডাঙ্গা গ্রামে জমি চাষের সময় স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ল্যান্ডমাইন–সদৃশ বস্তু দেখতে পান। তারা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলোকে স্থলমাইন হিসেবে নিশ্চিত করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাইনগুলোকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পুলিশ প্রহরায় এক মাস ধরে সংরক্ষণ করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে বিশেষজ্ঞ দল সেগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

মাইন নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পের (৩৬ এডি) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রিফাত, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ খালিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার遗留 বিপদের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যা আজও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝেমধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।