ঈদের পর যানজটে বিপর্যয়: ২৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক ও যমুনা সেতু
ঈদের পর ২৮ ঘণ্টা যানজট, স্বাভাবিক সিরাজগঞ্জ-যমুনা সেতু

ঈদের পর যানজটে বিপর্যয়: ২৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক ও যমুনা সেতু

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ব্যাপক চাপ এবং একাধিক যানবাহন বিকল হওয়ার কারণে সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক ও যমুনা সেতু এলাকায় প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে চলা মারাত্মক যানজটের পর অবশেষে শনিবার সকালে স্বাভাবিক হয়েছে যান চলাচল। এই দীর্ঘস্থায়ী যানজটে হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন আটকা পড়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

যানজটের সূত্রপাত ও বিস্তার

শুক্রবার ভোর রাত ৩টা থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়তে শুরু করে। এই চাপের ফলে সয়দাবাদ ও কড্ডারমোড় এলাকা থেকে শুরু হয়ে যানজট আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে, যমুনা সেতুর পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে সায়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।

যানজটের কারণসমূহ

এই যানজটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে বলে জানা গেছে। প্রথমত, সেতুর পূর্ব পাশে টাঙ্গাইল এলাকায় একটি দুর্ঘটনার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দ্বিতীয়ত, সেতু ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তৃতীয়ত, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ব্যাপক চাপ যানজটকে তীব্রতর করে তোলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা

যানবাহনের চাপ সামাল দিতে যমুনা সেতুর চারটি লেনই ঢাকাগামী যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ব্যবস্থা সত্ত্বেও যানজট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকাগামী যাত্রী ও সাংবাদিক মাহাবুর আলম সোহাগ বলেন, 'রাত ১টায় গাড়িতে উঠেছি, সকাল ৬টায় এসে পৌঁছেছি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়। প্রবেশের পরই যানজটে পড়ি। কবে ঢাকায় পৌঁছাবো, তা জানি না।' তার এই বক্তব্য যানজটের তীব্রতা ও যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতির উন্নতি ও স্বাভাবিকীকরণ

রাতভর যানজট ও ধীরগতির পর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, 'সকাল ৮টার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এখন আর কোনো যানজট বা ধীরগতি নেই।' তার এই ঘোষণা যানজটের অবসান নিশ্চিত করে।

প্রকৌশলীদের বক্তব্য

এদিকে, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, 'সেতুতে একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া অতিরিক্ত যানবাহনের চাপও ছিল। তবে সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।' তার মতে, যানবাহন বিকল হওয়া এবং অতিরিক্ত চাপ যানজটের মূল কারণ ছিল, যা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এই ঘটনা ঈদ পরবর্তী যান চলাচল ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন দীর্ঘস্থায়ী যানজট এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।