ঈদের পর রাজধানী ফেরত যাত্রীদের চাপে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানবাহন সংখ্যা বেড়েছে
ঈদ উল ফিতরের ছুটির পর রাজধানী ঢাকায় ফেরত যাত্রীদের চাপে ঢাকা–টাঙ্গাইল–জামুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার সময়কালে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়েছে ৪৬,২৭৮টি যানবাহন, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯,১৬৮টি বেশি। এই সময়ে সেতু কর্তৃপক্ষের টোল আদায় হয়েছে ৩.৪১ কোটি টাকা, যা যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
যানবাহন ও টোল আদায়ের বিস্তারিত তথ্য
সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ৪৬,২৭৮টি যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু অতিক্রম করেছে। এই যানবাহনগুলোর মধ্যে ১৬,২২২টি উত্তরবঙ্গের দিকে যাত্রা করেছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ১.৪৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৩০,০৫৬টি যানবাহন ঢাকার দিকে যাত্রা করেছে, যার ফলে টোল আদায় হয়েছে ১.৯৮ কোটি টাকা।
এই সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। ২৬ মার্চ তারিখে মোট ৩৭,১১০টি যানবাহন সেতু পার হয়েছিল, যার টোল আদায় হয়েছিল ২.৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যানবাহন সংখ্যা ৯,১৬৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টোল আদায়ও বেড়েছে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ব্যবস্থাপনা
জামুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদের পর ফেরত যাত্রীদের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, "বর্তমানে সেতুর উভয় পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রয়েছে—প্রতিটি পাশে নয়টি করে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি বুথ উভয় পাশে বরাদ্দ করা হয়েছে। যানজট মোকাবিলায় আমরা টোল বুথগুলো চব্বিশ ঘণ্টা চালু রাখার চেষ্টা করছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় শুরু হয় ১৯৯৮ সালে সেতু উদ্বোধনের পর থেকে। প্রাথমিকভাবে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস) টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করত। ২০১২ সালের শেষদিক থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন এই টোল আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং বর্তমানে তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা
বঙ্গবন্ধু সেতু বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঈদ ও অন্যান্য ছুটির সময়ে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়, তবে এবারের সংখ্যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কর্তৃপক্ষের মতে, যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও টোল আদায়ের দক্ষতা বজায় রাখতে তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় সাধন করছে।
এই বৃদ্ধি শুধুমাত্র যানবাহন সংখ্যার দিক দিয়েই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টোল আদায় বৃদ্ধি সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।



