ঠাকুরগাঁওয়ে বন্য প্রাণীর আক্রমণে গৃহবধূ জখম, প্রাণীর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুটি বন্য প্রাণীর আক্রমণে এক গৃহবধূ গুরুতর জখম হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার দুপুরে ধনতলা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে এই হামলা ঘটে, যেখানে স্থানীয়রা প্রাণীটিকে হায়েনা বলে দাবি করলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা একে বড় আকারের খেঁকশিয়াল বলে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরে মইনুল হকের স্ত্রী আমেনা বেগম বাড়ির কাজ সেরে বাইরে বের হওয়ার সময় হঠাৎ দুটি অচেনা বন্য প্রাণী তাকে ঘিরে ধরে। আতঙ্কিত আমেনা চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করলে একটি প্রাণী ঝাঁপিয়ে পড়ে তার নাকের ওপর কামড় বসিয়ে দেয়। এরপর প্রাণী দুটি সামনে থাকা তিনটি গরুকেও কামড় দিয়ে জখম করে।
গৃহবধূর চিৎকার শুনে লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রামবাসী ছুটে আসেন এবং প্রাণী দুটিকে তাড়া করা শুরু করেন। ধাওয়ার মুখে একটি প্রাণী পালিয়ে গেলেও অন্যটিকে গ্রামবাসী ধরে ফেলেন। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে প্রাণীটির মৃত্যু হয় এবং পরে মৃতদেহটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়, এবং সন্ধ্যার পর থেকে স্থানীয়রা মশাল ও লাঠি হাতে গ্রামে টহল দিতে শুরু করেন।
আহতের চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
আক্রান্ত আমেনা বেগমকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে। বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আহত নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় ভীতি কাটাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে।’ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
প্রাণীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে সংশয় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ধনতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, ভারত সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় আগে নাগর নদীতে কুমিরসহ বিভিন্ন বিরল প্রাণী দেখা গিয়েছে, তাই স্থানীয়রা একে হায়েনা বলে দাবি করছেন।
অন্যদিকে, বন বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাণীটি দেখতে হায়েনার মতো মনে হলেও আসলে এটি বড় আকারের খেঁকশিয়াল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমানে এদের প্রজনন ঋতু চলায় কিছুটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে বন বিভাগ প্রাণীটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনা ঠাকুরগাঁও এলাকায় বন্য প্রাণীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন।



