বরিশালের মুলাদীতে রাতের আঁধারে হাতবোমার বিস্ফোরণ, আতঙ্কে গ্রামবাসী
মুলাদীতে হাতবোমার বিস্ফোরণ, আতঙ্কে গ্রামবাসী

বরিশালের মুলাদীতে রাতের আঁধারে হাতবোমার বিস্ফোরণ, আতঙ্কে গ্রামবাসী

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় রাতের আঁধারে হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের জয়ন্তী নদীর উত্তরপাড়ে ভেদুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে ভেদুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে এবং আতঙ্ক ছড়াতেই এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

স্থানীয়দের বর্ণনায় আতঙ্কের মুহূর্ত

ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোকছেদ খান জানান, রাত ৯টার দিকে গ্রামের খোকন খানের পরিত্যক্ত বাড়ির কাছে প্রথমে একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর পরপর ৮ থেকে ৯টি বিস্ফোরণের শব্দ হয়। এতে গ্রামের নারী, শিশুসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে।

ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা ঝুমুর বেগম বলেন, ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর ছেলে আবু বকর, ইউসুফ মুন্সী, দুলাল খানের ছেলে লালন খান এবং তাদের লোকজনের কাছে পুরো গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই পরিবার দুটি এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ অস্বীকার ও পুলিশের তদন্ত

অভিযোগ অস্বীকার করে ছালাম মুন্সী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা এলাকায় হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, তার পরিবারের কেউই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।

সফিপুর পুলিশ চৌকির এএসআই মো. সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিষয়টি তারা শুনেছেন এবং অভিযুক্তদের আটক করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ এখনো আতঙ্কে রয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশের তৎপরতা আশার আলো দেখালেও, এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে আরও জোরদার পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।