কুমিল্লার রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি, নিহত ১২ জনের মর্মান্তিক ঘটনা
কুমিল্লা রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার, নিহত ১২

কুমিল্লার রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় সংঘটিত ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. হেলালকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হেলাল পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে অবস্থিত ই/৪৭ নম্বর রেলগেটের অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দ্বিতীয় আসামি এখনো পলাতক

মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মেহেদী (৩৩) হাসান এখনো পলাতক রয়েছেন। তিনি এই রেলক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। র‍্যাব-১১, সিপিসি-২-এর কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, সংস্থার একটি আভিযানিক দল হেলালকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এ বিষয়ে আজ বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি বাসটিকে ইঞ্জিনের মুখে ঠেলে প্রায় ৭০০ মিটার দূরের দৈয়ারা নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে থামে। এতে বাসটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন। আহত হন বাসের চালকসহ অন্তত ১৫ জন, যারা সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ও তদন্ত

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, হেলাল ও মেহেদীর দায়িত্বহীনতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় গত সোমবার কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন শেফালী আক্তার (৫৮) নামে এক নারী, যিনি নিহত সোহেল রানার খালা। মামলায় হেলাল, মেহেদী ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। হেলালের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে এবং পলাতক মেহেদীর বাড়ি একই উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত।

এই দুর্ঘটনা কুমিল্লা অঞ্চলে রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি তুলে ধরেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।