বিয়ের দিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূর স্বামীর মৃত্যু
নাটোরের বড়াইগ্রামে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূর স্বামী নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৯ বছর বয়সী জুলফিকার ইসলাম জিল্লু। তিনি পাবনার ইশ্বরদী উপজেলার দাশুরিয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন এবং পেশায় একজন প্রকৌশলী ছিলেন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে রবিবার সকাল ৮টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গোরমাটি কলোনি এলাকায়। জুলফিকার তার বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বোন ও ভগ্নিপতিকে নিতে দাশুরিয়া থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে রওনা দেন। পথে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর গাড়িটি প্রথমে একটি রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা খায় এবং পরে একটি পার্ক করা ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিয়ের আনন্দে পড়ে শোকের ছায়া
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, জুলফিকারের বিয়ে ঠিক হয়েছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী আঁখি খাতুনের সাথে। শনিবার বরপক্ষের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল এবং রবিবার ছিল কনের বিয়ের দিন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর উভয় পরিবারই মর্মাহত হয়ে পড়েন।
সন্ধ্যায় কনের বাড়ি চন্ডিপুর বড়ছয়ঘটি গ্রামে গেলে দেখা যায়, বাড়িটি তালাবদ্ধ রয়েছে। বিয়ের সাজসজ্জা ভেঙে ফেলতে কর্মীদের দেখা গেছে। আত্মীয়-স্বজনরা শোকের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী অবস্থা
বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মুনিরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তাই পোস্টমর্টেম পরীক্ষা করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, জুলফিকার ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও সদালাপী যুবক। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



