কুমিল্লার রেল দুর্ঘটনায় বিএনপি এমপির কান্নাজড়িত আবেদন, মন্ত্রীকে বললেন 'আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি'
রেল দুর্ঘটনায় বিএনপি এমপির কান্নাজড়িত আবেদন, মন্ত্রীকে বললেন 'আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি'

কুমিল্লার রেল দুর্ঘটনায় বিএনপি এমপির কান্নাজড়িত আবেদন

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় হতবিহ্বল স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রেল ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘণ্টা কয়েক পরে রেল ও সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির এই সংসদ সদস্য। মন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত এই এমপির কান্নারত সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সিঙ্গাপুর থেকে মন্ত্রীর সঙ্গে কান্নাজড়িত আলাপ

রবিবার সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুর থেকে মনিরুল রেলমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন। পরে তাদের আলাপের ভিডিওটি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্ত্রীকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুরোধ করেন। নিজের চিকিৎসা শেষে দ্রুত দেশে ফেরার কথাও জানান।

পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয় জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে মনিরুল বলেন, ‘এটা নতুন ঘটনা নয়, গত ১০০ বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেল সচিবের কাছে সব কাগজপত্র আছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারিনি।’ এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সেদিনও বলেছেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি’

জবাবে মনিরুল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার চিকিৎসক দেখানোর সূচি কাল (সোমবার) রাতে। চিকিৎসক দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করবো। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড হলে- আমি শান্তি পাবো জীবনে। আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন।’ এ সময় মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যাচ্ছি, রওনা দিয়েছি। আমি যা করার করবো।’

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। অনেকে আহত হন। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের মা ও তার দুই মেয়ে আছেন। আরেক পরিবারের স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন।

এক পরিবারের নিহত তিন জন হলেন- ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তার দুই মেয়ে খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৩)। এ ছাড়া এক পরিবারের দুজন হলেন- যশোরের চৌগাছা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫)।

নিহত বাকি সাত জন হলেন- চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাপাতলি এলাকার তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরার মহম্মদপুর এলাকার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ফাজিলপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম ওরফে রায়হান (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সাঈদা আক্তার (৯)।