মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্পের কড়া হুমকি: 'ইরান এখন মৃত'
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এমন এক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেছেন, 'ইরান এখন মৃত'। এরপর তিনি তার 'নতুন শত্রু' হিসাবে র্যাডিকাল লেফট ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে চিহ্নিত করেছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি হুমকিমুক্তভাবে সম্পূর্ণ না খোলে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা করে ধ্বংস করবে। এর শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে!' এই হুমকির পেছনে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক চাপকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও হরমুজ প্রণালির অবস্থান
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি স্পষ্ট করেছেন যে বিদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ইরান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। মেহর বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, মুসাভি বলেছেন এই সহযোগিতা কৌশলগত জলপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। তবে তিনি দাবি করেছেন, 'হরমুজ প্রণালি শুধু ইরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ।'
ট্রাম্পের নতুন শত্রু চিহ্নিতকরণ
ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে আরও বলেছেন, 'ইরানের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এখন আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো র্যাডিকাল লেফট, সম্পূর্ণ অযোগ্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টি!' এই মন্তব্যে দেশীয় রাজনৈতিক বিভাজনকেও তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও তেল বাজারের অবস্থা
ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামের পেছনে তীব্র দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। ইরানের অঘোষিত অবরোধের কারণে বিশ্বের তেলের দাম এই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।



