ফেনীতে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে এক শ্রমিক নিহত, সাতজন আটক
ফেনীতে মাটি কাটা বিরোধে নিহত ১, আটক ৭

ফেনীতে মাটি কাটা বিরোধে এক শ্রমিক নিহত, সাতজন আটক

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আবু আহমেদ (৩৭) ওরফে হোনা মিয়া নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন, যাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ উত্তেজিত লোকজন হামলায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ছাত্রদল কর্মীও রয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

শনিবার (১৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের কনট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আবু আহমেদ পূর্ব পাঠাননগর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে ছিলেন। তিনি মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শ্রমিকের কাজ করতেন।

আহত আলাউদ্দিন, যিনি পাঠাননগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য এবং আবু আহমেদের চাচাতো ভাই, রোববার সকালে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, পাঠাননগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য নুর আহমদ মিয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাটি কিনে শনিবার রাতে জমি থেকে মাটি কেটে পিকআপ ভ্যান দিয়ে বিক্রি করছিলেন। কনট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় গাড়ির টোকেনম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আবু আহমেদ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সময় কামরুল হাসান জাহিদ তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এলাকায় আসেন এবং মাটি কাটায় বাধা দিয়ে দুটি পিকআপভ্যান আটক করে ফেসবুকে লাইভ করেন। আলাউদ্দিনের বর্ণনায়, আবু আহমেদ জাহিদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। এরপর ছাগলনাইয়া থেকে আসা ১০ থেকে ১২ জন লোক তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আবু আহমেদকে লাথি ও কিল-ঘুসি মারতে শুরু করে। আলাউদ্দিন তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন এবং তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জাহিদসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

ছাগলনাইয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ যাওয়ার আগেই হতাহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আটকদের থানায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তবে আরও বিস্তারিত জানা যাবে তদন্তে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আবু আহমেদ মারা যান এবং তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের বক্তব্য

ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসিম উদ্দিন এ ঘটনায় মন্তব্য করে বলেন, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত কেউ যুবদলের সদস্য নন এবং তারা ভুয়া পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীর পরিচয় অপরাধী এবং অপরাধ করলে সাজা পেতেই হবে, দলের পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এই ঘটনা ফেনীতে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে।