বাগেরহাটে নৌবাহিনীর বাস দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
বাগেরহাট জেলার রামপালে সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর ও কনেসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে।
তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়িত্ব
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিআরটিএ বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক লায়লাতুল মাওয়া এবং জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, কমিটি দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া, বর ও কনের দাফনের জন্য অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ-এর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকে নিয়ম অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায়। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ও পরে পৃথক জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে কয়রা এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এছাড়া, মাইক্রোবাস চালক নাঈমের দাফন রামপাল উপজেলার নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনায় নিহত বর ছাব্বির মোংলায় মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কনে মিতু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ঘটনা সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তদন্ত ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
