জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার
জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি

জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজিবির বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতা

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজিবি সদর দপ্তরের সরাসরি নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য

যশোর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, "সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।

কার্যক্রমের বিস্তারিত

বিজিবির এই বিশেষ কার্যক্রমে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন ও জনবল বৃদ্ধি
  • টহল কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়ানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার
  • অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি
  • পূর্ববর্তী পাচার চেষ্টার রুটগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন
  • বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রাক তল্লাশিতে কড়াকড়ি আরোপ

এই পদক্ষেপগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জ্বালানি তেল পাচার রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।