মুন্সিগঞ্জে এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে এক ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার মামাতো ভাইও আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাতটার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ষোলঘর ওমপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতের পরিচয়
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. সাবেদ (১৯)। তিনি নারায়ণগঞ্জের আবদুল মতিনের ছেলে। সাবেদ রাজধানীর ঢাকা কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত ব্যক্তির নাম মো. সামির (২৪)। তিনি নারায়ণগঞ্জের দাদন আকন্দের ছেলে এবং নিহত সাবেদের মামাতো ভাই।
দুর্ঘটনার বিবরণ
আহত সামিরের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ ভোরে সাবেদদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর থেকে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন তিনি ও সামির। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন সাবেদ। তাঁদের মোটরসাইকেলটি ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে চলছিল। সকাল পৌনে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলটি শ্রীনগরের ষোলঘরের ওমপাড়া এলাকায় এলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রী ছাউনির ওপরে উঠে যায়। তাঁরা দুজন মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে দুই দিকে পড়ে যান।
সামির বলেন, ‘আমাদের দুজনের মাথায় হেলমেট ছিল। সাবেদ এক্সপ্রেসওয়ের মাঝখান দিয়ে মোটরসাইকেল ঠিকমতো চালাচ্ছিল। হঠাৎ করে সে যাত্রী ছাউনির পাশে ঘেঁষতে থাকে। ভোরে এক্সপ্রেসওয়েতে ঠান্ডা লাগছিল। আমি ভেবেছিলাম, সে যাত্রী ছাউনিতে থামাবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে ধাক্কা দেয়।’
উদ্ধার ও চিকিৎসা
শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা দেওয়ান মো. আজাদ জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে সাবেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত সামিরকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্সপ্রেসওয়েতে গতি সীমা মেনে চলা এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে নিয়মিত গাড়ির উচ্চ গতির কথা উল্লেখ করে আরও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।
