গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নিহত, আহত পাঁচ, স্বামী-স্ত্রীও আক্রান্ত
গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নিহত, আহত পাঁচ

গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নিহত, আহত পাঁচ, স্বামী-স্ত্রীও আক্রান্ত

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন, যাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীও রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কের শাহানা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন— ইজিবাইক চালক আল আমিন (২৮) ও যাত্রী দীপ গৌতম (৬৫)। আল আমিন সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত গ্রামের বেলাল মিয়ার ছেলে এবং দীপ গৌতম গাইবান্ধা জেলা শহরের পূর্বপাড়ার নারায়নের ছেলে।

অপর আহতরা হলেন— শরিফুল ইসলাম (২৮), ফারুক মিয়া (৪৬) ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম (২৮)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকটিতে দুই নারীসহ সাত যাত্রী সাদুল্লাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শাহানা ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে একটি সিএনজি হঠাৎ পেছন থেকে ওভারটেক করে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা গাইবান্ধামুখী একটি কার্গোর সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও পাঁচ জন।

উদ্ধার ও চিকিৎসা

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। তাদের সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে অজ্ঞাত নারী (৩০) ও মধু ফকিরকে (৫৫) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মোর্শেদুল ইসলাম জানান, আহত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশি পদক্ষেপ ও শোক

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।