রাজবাড়ীতে জমি বিরোধে হামলায় নিহত ১, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
রাজবাড়ীতে জমি বিরোধে হামলা, নিহত ১, বাড়িতে আগুন

রাজবাড়ীতে জমি বিরোধের জেরে হামলা ও আগুন: নিহত ১, আহত ২০

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বেথুলিয়া এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়, যাতে আতর শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এর প্রতিশোধ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেথুলিয়ার খোন্দকার পাড়ার জলিল শেখের পরিবার ও মিয়া পাড়ার সৈয়দ জাবেদ আলীর পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জমিতে স্বাধীনতার পর সৈয়দ জাবেদ আলী বসতি গড়েন। কয়েক বছর আগে জলিল শেখ মারা যাওয়ার পর তাঁর ছেলেরা পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দুই মাস আগে ওই জমিতে একটি টিনের ছাপরা তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

গতকাল ভোরে, সবাই সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর, প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে জলিল শেখের পরিবারের ওপর লোহার রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আতর শেখ ও তাঁর পরিবারের ১৪ সদস্যসহ উভয় পক্ষের মোট ২০ জন আহত হন। আহত আতর শেখকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

প্রতিশোধমূলক আগুন ও পুলিশি তৎপরতা

এসব ঘটনার জেরে আজ মঙ্গলবার সকালে বাদীপক্ষের বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত আফাজ উদ্দিন ও রিফাজ উদ্দিনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়, তবে চারটি ঘর পুড়ে যায়। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় গতকাল রাতে জলিল শেখের ছেলে রজব আলী শেখ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শামসুল হকসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শামসুল হকের ভাই সৈয়দ শাহিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। শামসুল হককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের বক্তব্য ও উত্তেজনা

আহত ইদ্রিস শেখ, জলিল শেখের ছেলে, বলেন, ‘গতকাল ভোরে সাহরি খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। সকাল ৭টার দিকে জাবেদ আলীর ছেলে শামসুল হকের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন হামলা চালিয়ে আমাদের নতুন বসতঘর ভাঙচুর করে আগুন দেয় এবং মারধর করে।’

অভিযুক্ত পক্ষের বাড়ির নারী সদস্যরা দাবি করেন, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমিতে স্বাধীনতার পর থেকে তাঁরা বসবাস করছেন। অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা বাধা দিলে মারধর ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল মোল্লা বলেন, ‘বাদীপক্ষের লোকজন আজ ভোর ৬টার দিকে আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রেখেছি এবং তদন্ত চলছে।’

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। জমি বিরোধের মতো সামান্য বিষয় কীভাবে রক্তারক্তি ও ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নিতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।