কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে চুরি: মূল্যবান মূর্তি ও পূজার সামগ্রী লোপাট
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ি জমিদারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দুটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকালের মধ্যে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা লক্ষ্মী নারায়ণ জিও মন্দির ও গৌড়-নিতাই মন্দিরে অনুপ্রবেশ করে মূল্যবান মূর্তি এবং পূজার সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের অভিযোগ।
চুরির বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার সকালে পূজা দিতে এসে পুরোহিত ও স্থানীয় বাসিন্দারা মন্দিরের দরজা খোলা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে, চুরির ঘটনা ঘটেছে। মন্দির সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মী নারায়ণ জিও মন্দির থেকে একটি পূজার ঘণ্টা, একটি কাঁসর, একটি শঙ্খ এবং একটি করতাল চুরি গেছে। অন্যদিকে, গৌড়-নিতাই মন্দির থেকে কাঁসার তৈরি আনুমানিক ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি গোপালের প্রতিমা এবং প্রায় এক কেজি ওজনের গৌড়-নিতাইয়ের দুটি মূর্তি দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই মন্দির দুটি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী, এবং চুরি হওয়া মূর্তি ও পূজার সামগ্রী শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, বরং ঐতিহাসিক মূল্যও বহন করে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন। লক্ষ্মী নারায়ণ জিও মন্দির কমিটির সভাপতি গৌরঙ্গ চন্দ্র সরকার বলেন, 'মন্দিরের পুরোহিত পঙ্গ চন্দ্র মোহন্ত বাদী হয়ে মামলা করবেন। কারও প্রতি আমাদের নির্দিষ্ট সন্দেহ নেই। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানি না।'
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।' স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী মন্দির এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করারও উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই চুরির ঘটনা কুড়িগ্রামের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের উপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায় আশা করছেন যে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার করা হবে এবং চুরি হওয়া মূল্যবান সামগ্রী ফিরে পাওয়া যাবে।
