কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে নিখোঁজের পাঁচদিন পর এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের হাত-পা ও চুল বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলের দিকে সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হামজার ডেইল কদমতলী এলাকায় পাহাড়ের ঢালু থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ১৫ দিন পূর্বে একই এলাকায় একজন সনাতনী সেবায়েতের মরদেহও পাওয়া গিয়েছিল।
নিহত শিশুর পরিচয়
নিহত শিশুর নাম উর্মি আক্তার (৯)। সে ওই এলাকার আব্দুর রশিদ ও রাশেদা আক্তারের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ মে সকালে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় উর্মি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ৪ মে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় (নম্বর-২৯৪)।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার
পরিবার ও পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে উর্মিকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ির পেছনের দক্ষিণ পাশের পাহাড়ি ঢালু এলাকায় দুর্গন্ধের সন্ধান পায়। সেখানে গিয়ে অর্ধগলিত একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এলাকায় আতঙ্ক
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকে এটিকে রহস্যজনক ও নৃশংস হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
পূর্বের ঘটনা
এর আগে একই এলাকায় নয়ন দাশ নামে এক সেবায়েতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনিও গত ১৯ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। আর ২২ এপ্রিল পাহাড়ের পাদদেশের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশের বক্তব্য
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন জানান, মরদেহটির হাত, পা ও চুল ছিল না এবং শরীরের বেশিরভাগ অংশ পচে গেছে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



