পটিয়ায় ডাকাতির মামলা জমা আছে বলে ওসি, তদন্তে ধামাচাপার অভিযোগ
পটিয়ায় ডাকাতির মামলা জমা আছে বলে ওসি, তদন্তে ধামাচাপা

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাইপাস-সংলগ্ন করল এলাকায় গত ১৩ এপ্রিল শানে মদিনা নামের একটি খামারের ৪ শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে ৩টি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খামারের মালিক মুহাম্মদ বেলাল পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন; কিন্তু পুলিশ আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পুনরায় ডাকাতি ও আটক

ডাকাতির ঘটনার পর গত ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে ওই একই খামারে পুনরায় ডাকাতি করতে এলে সোহাগ নামের এক কিশোর ডাকাত জনতার হাতে আটক হয়। পালিয়ে যায় আরও ৭-৮ জন। সেই সময় ডাকাত স্বীকারোক্তি দেয় ১৩ এপ্রিল খামারে ডাকাতিতে সে জড়িত এবং আরও কয়েকজন ডাকাত ও এসব ডাকাতির মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের নাম জানায়; যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক করে।

ওসির বক্তব্য

এরপর গত ৩০ এপ্রিল খামারের মালিক তার মামলা ও আটক ডাকাতের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে পটিয়া থানার ওসি তাকে বলেন- ‘আপনার মামলা থানায় জমা আছে’। বিষয়টি যুগান্তরের নজরে এলে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ওই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করেনি থানা পুলিশ। আটক ডাকাত সোহাগকে চালান দেওয়া হয়েছে অন্য একটি মামলায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডাকাতির বিবরণ

জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল ডাকাতির ঘটনায় সিকিউরিটি গার্ড মকসুদুর রহমান (৬০), মুজিবুর রহমান (৫৫), পারভীন আক্তার (৪৫) ও শিশু তামিমকে (৭) রশি দিয়ে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩টি গরু করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। সেই সময় আরও কয়েকটি গরু ও মহিষ গাড়িতে তুলতে না পারায় রাস্তার ধারে ফেলে যায়। গত ২৪ এপ্রিল পূর্ব মনসা অপসরি কমিউনিটি সেন্টারের পশ্চিম পাশে গরু ডাকাতির আরও একটি ঘটনা ঘটে এবং ওই ঘটনায় ৪টি গরু ও নগদ টাকা লুট হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেনা কর্মকর্তার ছিনতাই

সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট শহিদুল ইসলাম জানান, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় মনসা এলাকায় এক সেনা কর্মকর্তার স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় থানায় দায়ের করা এজাহার গোপন করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘটনার ৪ দিন পর ২ এপ্রিল একটি হারানো জিডি নেওয়া হয়। তিনি সার্জেন্ট হিসেবে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ চক্রশালায়।

তিনি জানান, ২৯ মার্চ পৌনে ৮টার দিকে গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ফেরার সময় পটিয়া উপজেলার মনসা এলাকায় চলন্ত সিএনজি থেকে এসব স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতেই পটিয়ায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন; কিন্তু পুলিশ এজাহারের কপি জমা নেওয়ার পর কয়েক দিন পরে থানায় যোগাযোগ করতে বলেন। ঘটনার ৪ দিন পর ২ এপ্রিল থানায় গেলে আরও একটি জিডি করতে হবে বলে জানান এবং থানার রাইটার দিয়ে ওসি জিডি লিখিয়ে তাতে তার স্বাক্ষর নেন। পরে জানতে পারি টাকা, স্বর্ণালংকারের কথা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মোবাইল ফোন হারানোর একটি জিডি করা হয়েছে। হারানো জিডির মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ওসির বক্তব্য

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার রাতে একটি এজাহার সেনা কর্মকর্তা জমা দিয়েছিলেন সত্য। তবে পরে বাদী নিজ থেকে থানায় এসে একটি হারানো জিডি দায়ের করে গেছেন। তাতে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। ডাকাতির সুনির্দিষ্ট ঘটনায় মামলা না নেওয়া ও আটক ডাকাতের স্বীকারোক্তি থাকার পরও অন্য মামলায় চালান দেওয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে পটিয়া থানার ওসিকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন না ধরায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।