কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ১৯ দিন পর রোববার গভীর রাতে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আজ সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দক্ষিণ, পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩)। পুলিশ বলছে, দরবারে হামলার সময় ধারণ করা মুঠোফোনের ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—কয়েক বছর আগের ৩৬ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও ১০ এপ্রিল সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল সকালে শামীমের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। এরপর দুপুরের পর তারা ওই দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
মামলার এজাহার
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারে চারজনের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। তাঁর বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। অন্য তিনজন হলেন দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান (৩৫)। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি। তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার রাজীব মিস্ত্রীকে (৪৫)। চার নম্বর আসামি হলেন ইসলামপুর (পূর্ব পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
তদন্তের অগ্রগতি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা প্রথম আলোকে জানান, মামলার পর থেকেই আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন, তাঁরা হামলায় অন্যদের সঙ্গে ছিলেন। প্রয়োজনে তাঁদের রিমান্ড চাওয়া হবে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।



