চাঁদপুরে ঝড়ে লঞ্চে ধাক্কা, আহত ১০ যাত্রী
চাঁদপুরে ঝড়ে লঞ্চে ধাক্কা, আহত ১০ যাত্রী

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আজ সোমবার দুপুরে হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে ‘ঈগল-৭’ ও ‘ময়ূর-২’ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, সোমবার বেলা দুইটার পর চাঁদপুরে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। এ সময় লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে আসা ‘ঈগল-৭’ লঞ্চের যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘ঈগল-৭’-কে ধাক্কা দেয় ঢাকা থেকে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘ময়ূর-২’।

যাত্রীদের আতঙ্ক

দুটি লঞ্চের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে নামতে থাকেন। কেউ সন্তান, কেউ ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে নৌ টার্মিনাল ঘাটে নেমে পড়েন। উপস্থিত নৌ পুলিশ, নৌ ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতদের অবস্থা

ঈগল-৭ লঞ্চে ঢাকা থেকে আসা শরীয়তপুরের খাদিজা আক্তার বলেন, ‘দুই শিশুকে নিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে মনে হয়, জীবনটাই হারিয়ে ফেলেছিলাম।’ আরেক যাত্রী আবদুল্লাহ বলেন, ‘ঝড়ের সময় পরিবার নিয়ে কেবিনে থাকায় প্রাণে রক্ষা পাই।’

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা মিতালী লঞ্চের স্টাফ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার জীবনে এ ধরনের ঝড়ের তাণ্ডব দেখিনি। ঘাটের কাছে এসে এ ধরনের ঝড়ের কবলে পড়া দুটি লঞ্চ মুহূর্তের মধ্যে যেভাবে লন্ডভন্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নদীর মাঝখানে থাকলে কোনো যাত্রী প্রাণে বাঁচত না।’

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা

আবে জমজম লঞ্চের সুপারভাইজার বিপ্লব সরকার জানান, এই ঝড়ে ঘাটের একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাটে ভিড়তে গিয়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঝড়ের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঘাটে অনেক লঞ্চের যাত্রী আটকা পড়েন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাঁদপুর নৌ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঝড় শুরুর সময় থেকেই ঘাটে অবস্থান করছিলাম। প্রচণ্ড ঝড়ে দুটি লঞ্চের যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ব্যাগ ও মালামাল ফেলে দ্রুত নামার চেষ্টা করেন। এই হুড়োহুড়িতে নারী–শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

নিরাপত্তা উদ্বেগ

চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্কাউট সদস্যরা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আমি অনুরোধ করব, ঝড়ের সময় আগে নিজের নিরাপত্তা রেখে তারপর যাত্রীরা লঞ্চে যাতায়াত করলে ভালো হয়। কিন্তু দেখা গেছে, আবহাওয়া ভালো নেই, লঞ্চগুলোও অতিরিক্ত যাত্রী ওঠাচ্ছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে।’